ঢাকা প্রতিনিধি:
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করা হয় বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মহাখালীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সয়াবিন তেল পুরোপুরি আমদানি-নির্ভর পণ্য। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা করলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। আমদানিকৃত তেলের দাম নির্ধারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হিসাব পদ্ধতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে এফওবি (FOB) মূল্যের সঙ্গে জাহাজভাড়া, খালাস ব্যয়, বিমা, রিফাইনারির প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় এবং পরিবহনকালীন অপচয় (ওয়েস্টেজ) যুক্ত করে চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ইনডেক্স অনুসরণ করেও সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা চাইলে এই হিসাবের সঙ্গে স্থানীয় বাজারদরের সামঞ্জস্য যাচাই করতে পারেন।
ব্যবসায়ীদের লোকসানের ঝুঁকি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের ভোজ্যতেল ব্যবসা মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর। আমদানিকারকরা দীর্ঘ সময় লোকসানে থাকলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হতে পারে। তাই বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ব্যবসায়ীরা যাতে লোকসানের কারণে ব্যবসা গুটিয়ে না নেন, সে জন্য যৌক্তিক ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৭৮ লাখ পরিবারকে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য দেওয়া হচ্ছে। দুই ঈদে খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রির পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়মিত ওএমএস কার্যক্রমও চালু রয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং আমদানির সরবরাহ পাইপলাইন নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
চিনির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় রিফাইনারি মেঘনা গ্রুপের কাছে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত চিনি রয়েছে। ইউটিলিটি সংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলেও দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারি কর্মচারীদের পে-স্কেল প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছর তাদের বেতন সমন্বয় করা হয়নি। মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেলকে তিনি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পে-স্কেল একবারে নয়, আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ফলে বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি বা বৈষম্য তৈরির আশঙ্কা নেই।
সুগন্ধি চাল রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি জানান, অনুমোদনের বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র আড়াই হাজার টন চাল রপ্তানি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে যারা চাল রপ্তানি করতে পারেননি, তাদের অনুমোদন উল্লেখযোগ্য হারে বাতিল অথবা কমানো হবে বলেও জানান তিনি।

