এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে সামনে রেখে করতোয়া নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার, নদীতীরের ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্লক স্থাপন এবং নদীটির পূর্ণাঙ্গ পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
রোববার (১ নভেম্বর) বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের জাহানাবাদ এলাকায় করতোয়া নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।
পরিদর্শনকালে নদীর বর্তমান অবস্থা, পানিপ্রবাহের প্রতিবন্ধকতা, তীরবর্তী এলাকার অবকাঠামোগত ঝুঁকি এবং কোথায় কী পরিমাণ ব্লক স্থাপন করা প্রয়োজন, তা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি নদী পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল, জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমা আকতার, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আপেল মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খাদেম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ সুজন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল কবীর রাশেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান সরকার, সাধারণ সম্পাদক এম আর হাসান পলাশ, বিএনপি নেতা আলহাজ্ব আব্দুল বাছেত ও এনামুল হক উকিল। আরও উপস্থিত ছিলেন যুবদল নেতা শাহ আলম, সুমন সরকার, ইউপি সদস্য মাফুজার রহমান, আল আমিনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
পরিদর্শন শেষে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, করতোয়া নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং নদীতীরের স্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদী পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণে ব্লক স্থাপনের প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত এসব কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, করতোয়া নদীর পরিকল্পিত পুনঃখনন ও তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন এবং স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে নদী পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে। দীর্ঘদিনের নাব্যতা সংকট ও নদীতীরের ঝুঁকি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে উপকৃত হবেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও কৃষকেরা।
এর আগে পরিদর্শনস্থলে পৌঁছালে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সফরসঙ্গীদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করেন লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. আপেল মাহমুদ।

