এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর পলাতক আসামি মোঃ নাইফ হাসানকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১২ (এসআরবি-১২)। সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ২৫ মিনিটের দিকে বগুড়া শেরপুর উপজেলার জয়নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নাইফ হাসান শেরপুর উপজেলার জয়নগর গ্রামের মোঃ আব্দুল খালেকের ছেলে।
এসআরবি-১২-এর বগুড়ার ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানির (সিপিএসসি) পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী ২৪ বছর বয়সী এক নারীকে দুই লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিস্ট্রিকৃত কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ে করেন নাইফ হাসান। পরবর্তী সময়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামি অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ভুক্তভোগীর কাছে চার লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত অর্থ না পেয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ৬ আগস্ট রেজিস্ট্রিকৃত তালাকনামার মাধ্যমে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। অভিযোগে বলা হয়, তালাকের কয়েক দিন পর আসামি নিজের ভুল স্বীকার করে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দেন। এই আশ্বাসে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর বিয়ের কথা বলে ভুক্তভোগীকে বগুড়া সদর থানাধীন চারমাথা এলাকার একটি হোটেলকক্ষে নিয়ে যান আসামি। সেখানে কাজি আসার কথা বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে সাতমাথায় কাজি অফিসে যাওয়ার কথা বলা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর আসামি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভুক্তভোগীকে মারধর করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর ৭৬, জিআর নম্বর ৯৩৮/২০২৬। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(খ) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
এসআরবি-১২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, মামলার প্রধান পলাতক আসামি নাইফ হাসান গ্রেপ্তার এড়াতে শেরপুরের জয়নগর এলাকায় অবস্থান করছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়া সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-১২ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপরাধ দমন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

