দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
বগুড়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বগুড়া সদর উপজেলাকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন। টুর্নামেন্টে প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে দলটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফুটবল মাঠে ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। প্রথম চারটি শটে দুই দলই চারটি করে গোল করলে সমতা বজায় থাকে। পরে সাডেন ডেথে বগুড়া সদর উপজেলার শেষ শটটি রুখে দিয়ে সিটি কর্পোরেশনকে শিরোপা এনে দেন গোলরক্ষক আব্দুল হাকিম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।
চ্যাম্পিয়ন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন দলকে নগদ তিন লাখ টাকা ও ট্রফি এবং রানার্সআপ বগুড়া সদর উপজেলা দলকে নগদ দেড় লাখ টাকা ও ট্রফি দেওয়া হয়।
ফাইনালকে ঘিরে মাঠে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও অনেকে আশপাশের ভবনের ছাদ, গাছের ডাল এমনকি পরিত্যক্ত ফ্লাডলাইটের টাওয়ারে উঠে খেলা দেখেন। দর্শকদের এমন উপস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষ ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন, দর্শকদের এই উপস্থিতিই তার প্রমাণ। দর্শকদের বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় খুব শিগগিরই মাঠের চারপাশে গ্যালারি নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় বগুড়ায় ‘আরাফাত রহমান প্যারা স্পোর্টস ভিলেজ’ নির্মাণের সিদ্ধান্তের কথাও জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বগুড়ায় খেলাধুলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
দর্শকদের বসার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা। পরে মাঠের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে গ্যালারি নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টে বগুড়ার ১৩টি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন দল অংশ নেয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি বগুড়ায় ফুটবলের জনপ্রিয়তার চিত্র তুলে ধরে।

