এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হেফাজতে থাকা হত্যা ও সিএনজি ছিনতাই মামলার এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি হাজতখানার ওয়াশরুমে নিজের পরনের লুঙ্গি গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০টার দিকে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ের হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মৃত আসামি আসাদ (৩০) বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোরগাছা মধ্যপাড়া গ্রামের মো. মতি মুন্সির ছেলে। তিনি সারিয়াকান্দি থানায় দায়ের হওয়া সিএনজি ছিনতাই ও চালক হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সকালে সারিয়াকান্দি উপজেলার দড়িপাড়া গ্রামের কৈ-খালি বিলসংলগ্ন এলাকা থেকে সিএনজি চালক মো. আব্দুল মান্নান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ। নিহত আব্দুল মান্নান বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের গেদা মুন্নার ছেলে।
এ ঘটনায় ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় মামলা (নং-১) দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৯৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং আরও দুই সহযোগীর বিষয়ে তথ্য দেন বলে পুলিশের দাবি।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল তাকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁ জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান শেষে রাতে তাকে আবার ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। রাতে খাবার খেয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সকাল ১০টার দিকে আসাদ হাজতখানার ওয়াশরুমে যান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি বাইরে বের হচ্ছিলেন না। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ভেতরে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, “হাসপাতালে আনার পর আমরা তার গলায় একটি দাগ দেখতে পেয়েছি। শরীরের অন্য কোথাও দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যাজনিত ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত মতামত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পরই জানা যাবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, আসাদ বাথরুমে প্রবেশ করে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে লুঙ্গি পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে হত্যা মামলার পলাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ঘটনার দিন তিন ব্যক্তি বগুড়ার বৌবাজার এলাকা থেকে একটি সিএনজি ভাড়া করে সারিয়াকান্দিতে যান। সেখানে চালককে হত্যা করে সিএনজি ছিনতাই করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতারের পর আসাদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

