চার দিনেও মেলেনি সন্ধান, প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণির ১৬ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে দিনদুপুরে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ওই শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. রিয়াদ হোসেনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে শেরপুর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী শেরপুর মজিবর রহমান মজনু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে চকপোতা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০) দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ওই ছাত্রীর অভিভাবকেরা রিয়াদের পরিবারকে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উল্টো ওই ছাত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে আরও জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ওই ছাত্রী। পথে চকপোতা গ্রামের জামাদারের দোকানের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রিয়াদ ও তাঁর সহযোগীরা জোরপূর্বক তাকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে গাড়িটি শেরপুরের দিকে চলে যায়।
নির্ধারিত সময়ে মেয়ে বাড়ি কিংবা বিদ্যালয়ে না পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শনিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিরা হলেন চকপোতা গ্রামের রিয়াদের মা মোছা. ফরিদা বেগম (৪০), মো. হাফিজার রহমান (৫৫), রিয়াদের ভাই মো. জিহাদ হোসেন (২৫) এবং মোছা. কহিনুর বেগম ওরফে জেসমিন (৪০)।
চার দিন পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীর সন্ধান না মেলায় পরিবারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিখোঁজ কিশোরীকে দ্রুত উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।

