এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য উৎপাদন, ভাঙা ও ময়লাযুক্ত ডিম ব্যবহার, পোড়া তেল ও নন-ফুডগ্রেড রং দিয়ে খাদ্য তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ‘লামিয়া বেকারি’কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা সাময়িকভাবে সিলগালা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জেলা প্রশাসক, বগুড়ার সার্বিক নির্দেশনায় শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জেলার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শৈলালপাড়া এলাকায় অবস্থিত লামিয়া বেকারিতে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বগুড়া এবং জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার সমন্বয়ে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে কারখানাটিতে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য প্রস্তুত করতে দেখা যায়। এছাড়া খাদ্যের মোড়কে মিথ্যা তথ্য প্রদান, ভাঙা ও ময়লাযুক্ত ডিম ব্যবহার, অপরিষ্কার মেঝেতে প্রস্তুতকৃত খাদ্য সংরক্ষণ ও মোড়কজাতকরণ এবং পোড়া তেল ব্যবহার করে খাদ্য তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ছাড়া খাদ্য তৈরিতে অনুমোদনহীন বা নন-ফুডগ্রেড রং ব্যবহারের পাশাপাশি ময়লা ও অপরিষ্কার টেবিলে ময়দার ডো প্রস্তুত করতে দেখা যায়। এসব অনিয়মকে জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানে লামিয়া বেকারিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। একই সঙ্গে বিধি মোতাবেক কারখানাটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, বগুড়া মো. রাসেল এবং সহকারী পরিচালক (পরিদর্শন), জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়া মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত সব আইন, বিধি ও নিরাপদ খাদ্যসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

