দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই কথা বলবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বঞ্চিত। বগুড়া তার ন্যায্য পাওনা বুঝে পাক—এটাই তিনি চান।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যেখানেই অসংগতি দেখব, সেখানেই কথা বলব। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে—এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়া তার পাওনা বুঝে পাক, আমি এটা চাই।”
দেশের চলমান তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব সংকট সমাধানে সংসদের বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে বারবার বিষয়গুলো তুলে ধরেও কার্যকর উদ্যোগ না হওয়ায় তারা রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের আমূল সংস্কারের দাবি উঠেছিল উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, জনগণ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, প্রদত্ত ভোটের ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ ভোট সংস্কারের পক্ষে পড়েছে। তবে সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ভোটের রায় অগ্রাহ্য করার সুযোগ কারও নেই। জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দাবিতেই তারা আন্দোলন করছেন।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ ৫৫ বছর অতিক্রম করেছে। একই সময়ে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানও দ্রুত শিল্পোন্নয়নের পথে এগিয়ে যায়। অথচ বাংলাদেশ প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আদমজী জুট মিলের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একসময় এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম পাটশিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসা বিভিন্ন শিল্প-সম্পদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানে সেখানে শিল্পপার্ক গড়ে উঠলেও আদমজীর আগের সেই গৌরব আর নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। সাংবাদিকদের সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সুন্দর দেশ গঠনে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় শেষে ডা. শফিকুর রহমান হোটেল মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে যোগ দেন।

