দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
এক নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে টিপসই নেওয়া এবং পরে তাকে বিয়ের কাবিননামা তৈরি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া একটি কাবিননামা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কাজি কাবিননামাটি সম্পূর্ণ জাল বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার নিজেকে জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি এলাকায় একটি কসমেটিকসের দোকান পরিচালনা করেন। অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্তার বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।
উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুল হক বলেন, ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় দায়িত্বশীলদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। আবদুস ছাত্তার জামায়াতের কোনো পদধারী নেতা নন। বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ফজলুল হক বলেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত। তবে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাটি সাজানো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে বলেও মনে হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কুদ্দুস এর আগে বিভিন্ন সময় ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে ওই নারী কখনো তার প্রস্তাবে রাজি হননি। কুদ্দুসের সংসারে স্ত্রী সুফিয়া খাতুন, ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনি রয়েছে।
বাড়িতে কুদ্দুসকে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী সুফিয়া খাতুন বলেন, বিয়ের বিষয়ে তার স্বামী তাকে আগে কখনো কিছু জানাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কুদ্দুস দাবি করেন, তিনি ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি কারও কথা শোনেননি বলে জানান সুফিয়া।
ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় দেখা যায়, কাজি হিসেবে গোলাম মোস্তফার নাম রয়েছে। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে আবদুল মান্নান ও সাইফুল ইসলামের নাম দেওয়া হয়েছে। তবে সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি ওই বিয়ের কোনো সাক্ষী ছিলেন না।
কাজি গোলাম মোস্তফা বলেন, তিনি ওই বিয়ে সম্পন্ন করেননি। তার দাবি, ছড়িয়ে পড়া কাবিননামাটি সম্পূর্ণ জাল। এর আগে ২০২০ সালেও তার নাম ব্যবহার করে একই ধরনের একটি জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছিল। সে ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। এবার কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে গত সোমবার ও বুধবার গ্রামে দুই দফা সালিশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সালিশে অভিযুক্ত আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস কেউই উপস্থিত ছিলেন না। তাদের আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
সালিশে নেতৃত্ব দেওয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী বলেন, ‘কীভাবে কী হলো, আমরা যাচাই করছি। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।’ তিনি জানান, আবদুস ছাত্তার শুক্রবারের মধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি বিভিন্নজনের কাছ থেকে তারা শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

