ঢাকা প্রতিনিধি: রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত মরিয়ম খাতুনের (১৯) গলায় ফাঁস দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মরিয়ম খাতুনকে ওই ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা গেছেন বলে জানা যায়। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মরিয়ম খাতুনকে ঘিরে এর আগে চলতি বছরের জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
গাজী নজরুল ইসলামের ওই দাবির পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্তের কথা জানিয়ে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। ২২ জুলাই ২০২৬ জামায়াতের পক্ষ থেকে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয় নিয়ে সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়।
এদিকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। মরদেহের সুরতহাল, ময়নাতদন্ত এবং ঘটনাস্থলের আলামত পর্যালোচনার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে এ প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

