এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য উৎপাদন, অনুমোদনহীন রাসায়নিক ফ্লেভার ব্যবহার এবং খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের অভিযোগে ‘নূর বেকারি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের ঠনঠনিয়া শাহপাড়া এলাকায় অবস্থিত নূর বেকারিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসক, বগুড়ার সার্বিক নির্দেশনায় জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বগুড়া জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালাল।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় বেকারিটির উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি খাদ্য তৈরি করতে দেখা যায়। এছাড়া গুণগত মান যাচাইয়ের সনদবিহীন রাসায়নিক ফ্লেভার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।
অভিযানকারীরা আরও দেখতে পান, বাথরুমের দরজার পাশে ময়দার ডো তৈরি ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রেও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার বিষয়টি নজরে আসে।
কারখানায় খাদ্য তৈরির কাজে এসএস স্টিলের পরিবর্তে কাঠের টেবিল ব্যবহার করা হচ্ছিল। ওই টেবিলটিও যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ছিল না। পাশাপাশি প্রস্তুত করা পাউরুটি মেঝেতে রাখার মতো অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনাও দেখা যায়।
এসব অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিষয় প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হলে তারা অভিযোগের বিষয়গুলো স্বীকার করেন। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৩ ধারায় সংঘটিত অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থ ঘটনাস্থলেই আদায় করা হয়।
এদিকে, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনায় পাওয়া অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া জেলা কার্যালয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা মো. রাসেল, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদী হাসানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সময় সার্বিক নিরাপত্তায় বগুড়া জেলা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে।
অভিযান শেষে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সরকারের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদনস্থলের পরিচ্ছন্নতা, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

