শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বয়সের ভারে ন্যুব্জ ৭০ বছর বয়সী আব্দুল জব্বার মন্ডল। অভাব-অনটনে তাঁর পরিবারের দিন কাটছিল অনাহারে-অর্ধাহারে। এমন অসহায় পরিবারের দুর্দশার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানতে পেরে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু।
আব্দুল জব্বার মন্ডল শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করে চলছিল তাঁর পরিবার। নিত্যদিনের খাবার জোগাড় করাও তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমুর উদ্যোগে অসহায় পরিবারটির হাতে দুই প্যাকেট শুকনা খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, ডালসহ মোট ১৪ ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য রয়েছে। এসব খাদ্যসামগ্রী দিয়ে পরিবারটি প্রায় দুই মাস চলতে পারবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সাংবাদিক আইয়ুব আলীর ব্যক্তিগত ফেসবুক পাতায় দেওয়া একটি তথ্যের মাধ্যমে আব্দুল জব্বার মন্ডলের পরিবারের অসহায়ত্বের বিষয়টি ইউএনওর নজরে আসে। বিষয়টি জানার পর তিনি পরিবারটির জন্য খাদ্যসহায়তার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দুর্দশায় সাড়া দেওয়ার কারণে সাইদুজ্জামান হিমু স্থানীয়ভাবে ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসহায় মানুষের দুরবস্থার খবর পেলে তিনি তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আব্দুল জব্বার মন্ডলের পরিবারের জন্য খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করায় স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তাঁদের মতে, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ালে বিপদগ্রস্ত পরিবারগুলো তাৎক্ষণিকভাবে উপকৃত হয়। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হন।
মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে অসহায় পরিবারটির সাময়িক খাদ্যসংকট কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
প্রাণের শহর বিডি

