শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে ব্রিজের নিচে নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১ নভেম্বর) পিবিআইয়ের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে একটি নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ড্রাম খুলে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআই শেরপুর জেলার ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদনগর এলাকার শাকিল মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু বাদী হয়ে তাঁর স্বামী সাইফুল ইসলামসহ অন্যদের আসামি করে শ্রীবরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২৩ অক্টোবর দায়ের করা মামলাটিতে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারা যুক্ত করা হয়।
গত ২৯ অক্টোবর পিবিআই শেরপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান।
তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ অক্টোবর পঞ্চগড়ের বোদা থানার দিঘলগ্রাম এলাকা থেকে মো. নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে মো. সজল (৪৪) নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১ নভেম্বর একই এলাকা থেকে মো. নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা (৪৪) নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত ঝিনুক আক্তার টঙ্গী এলাকায় একটি পার্লারে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তাঁকে ঢাকার উত্তরখান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অনৈতিক কাজের পারিশ্রমিকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমা বটি দিয়ে ঝিনুককে আঘাত করেন। পরে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে জানা গেছে।
পিবিআইয়ের দাবি, হত্যার পর মরদেহটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া ব্রিজের নিচে ফেলে রেখে যায় আসামিরা।
তবে এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পিবিআই। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

