ঢাকা প্রতিনিধি:
ঢাকা, ১ নভেম্বর ২০২৬: ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নকল-ভেজাল খাদ্যপণ্য প্রতিরোধে দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ অভিযানে দেশের ২৭টি জেলায় ৭২টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) অধিদপ্তরের ৪০টি দল একযোগে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ, হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি, ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল-ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন প্রতিরোধে তদারকি করা হয়। পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, পাবনায় অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে অধিদপ্তর। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদ হাসান রনির নেতৃত্বে জেলার মালিগাছা ইউনিয়নের রাখালগাছি এলাকার একটি গোয়ালঘরে অভিযান চালানো হয়।
এ সময় অপরিপক্ব কলায় নিষিদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ রং ধারণ করিয়ে বাজারজাত করার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। এ অপরাধে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগ করা আনুমানিক ১২ হাজার কলা স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট ও প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যাচাই এবং সঠিক ওজন নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিক্রেতার কাছ থেকে ভাউচার সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পণ্য কেনাকাটায় কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নকল-ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

