এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের পীরহাটি গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় মৃত দুলাল চন্দ্রের ছেলে শ্রী সুজন কুমারের বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে হঠাৎ সুজন কুমারের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নিয়ে পাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুনের লেলিহান শিখায় দুটি বসতঘরই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময় বাড়িতে সুজন কুমারের মা, বৃদ্ধা দাদি ও দুই শিশুসন্তান ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা কোনো রকমে ঘর থেকে বের হয়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও ঘরের ভেতর থাকা কোনো মালামালই বের করে আনতে পারেননি।
স্থানীয়রা আগুন নেভানোর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে এগিয়ে এলেও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, শেষ পর্যন্ত কোনো আসবাবপত্র কিংবা মূল্যবান সামগ্রী রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আগুনে ফ্রিজ, টেলিভিশন, স্টিলের আলমারি, কাপড়চোপড়, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ ঘরের প্রায় সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
সুজন কুমার বলেন, ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে ঘরে রাখা প্রায় ৩ লাখ টাকা আগুনে পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও পুড়ে নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও আর অবশিষ্ট নেই। রান্নার সামগ্রী, পরনের কাপড়, প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিসপত্র- কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ও ব্যবহার্য সামগ্রী হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। নতুন করে ঘর নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশার খবর পেয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে নগদ অর্থ ও চাল সহায়তা দেওয়া হয়।
এ সময় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান মন্ডল, আজাহার আলী, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মাহফুজার রহমান শাহালীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাদের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্দশা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

