এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রাম বাঙালি নদীর অব্যাহত ভাঙনে চরম হুমকির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে কৃষিজমি, বসতভিটা ও গাছপালা। বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন গ্রামের সর্বস্তরের বাসিন্দারা।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাসের ঐতিহ্যবাহী কৃষিনির্ভর হেউটনগর গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের শিকার। ইতোমধ্যে অসংখ্য একর আবাদি জমি, বসতবাড়ি, ফলজ ও বনজ গাছপালা এবং বিভিন্ন স্থাপনা বাঙালি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার একাধিকবার বাড়িঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু নিরাপদ স্থানও ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় নতুন করে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে হেউটনগর গ্রামের উত্তর আজবন্দ এলাকা থেকে দক্ষিণ ক্ষক্ষাড়া পর্যন্ত নদীতীর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আরও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, নদীভাঙন শুধু ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতিই নয়, এটি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন, জীবিকা, পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কৃষিনির্ভর বহু পরিবার জমি হারিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছে। অনেকে জীবিকার সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
গ্রামবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলগত সমীক্ষা পরিচালনা করে নদীতীর সংরক্ষণের লক্ষ্যে জিও ব্যাগ, সিসি ব্লক, স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধসহ আধুনিক ও টেকসই ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে বাঙালি নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
হেউটনগর গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি মানবিক ও জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হেউটনগর গ্রামকে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং হাজারো মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও জীবিকা নিরাপদ থাকবে।
এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, “হেউটনগর গ্রামের নদীভাঙন সংক্রান্ত একটি লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে এবং হেউটনগরের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে।

