শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুরে জুলাই যোদ্ধা মো. শামীম রেজাকে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শেরপুর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তবে ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাদী ও আহতের স্বজনরা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের গড়েরবাড়ী এলাকার শেরুয়া বটতলা গ্রামের রাকিব ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পূর্বের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ হয়ে শামীম রেজাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
একপর্যায়ে গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে এক অভিযুক্তের হুকুমে শামীমের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথা, মুখ, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। শামীমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর মা ও স্বজনদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত শামীমকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় শামীম রেজার বড় ভাই মো. আঃ আলীম বাদী হয়ে শেরপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. রাসেল, মো. আঃ মজিদ, মো. রাশেদুল ইসলাম, মো. সালাম, মো. আবুল কালাম, মো. রাকিব ও মো. আঃ রহিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে মারধরের সময় শামীমের পকেটে থাকা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মো. আঃ আলীম। তিনি বলেন,আমার ভাইকে প্রকাশ্যে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। আমরা দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
শেরপুর থানার ওসি (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

