দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
আজ ১৬ আগস্ট রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসন এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। সরকার ইমারজেন্সি খাতে টাকা নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে পারে । সমস্যা সমাধানে দশ বছরের অযুহাত না দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সংকট সমাধানে দীর্ঘ সময়ের কথা বলে জনগণকে শান্ত করা যাবে না। জরুরি ভিত্তিতে যেকোনো সরকার জনগণের দুর্ভোগ দূর করার জন্য অনেক পদক্ষেপ নিতে পারে। সরকার বিদ্যুতের অবৈধ লাইন বন্ধ করতে পারে, ভুতুড়ে বিল বন্ধ করতে পারে, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টের ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে, এগুলো বন্ধ করুন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সিন্ডিকেট করে লুটপাটের মার্কেট করে রেখেছে সরকার। এগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচানো যায়, সেদিকে সরকারের নজর নেই। তাদের নজর বিরোধীদলের আন্দোলনের দিকে। গণভোটের গণরায় কার্যকর না করে তো উপায় নেই। সেজন্য জনগণের এই দুর্ভোগ ও নিজেদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
বিদ্যুতের সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানের বিষয়ে তারা কেউ ১০ বছরের কেউ ২ বছরের কথা বলছেন। তাদের কথার মধ্যেই মিল নেই। এজন্য তারা আগে নিজেদের মধ্যে সালিশটা মিটিয়ে নিক। জামায়াত প্রধান বিরোধীদল হিসেবে একটি সমন্বিত প্রস্তাবনা দিয়েছে। সরকারের সক্ষমতা থাকলে তা বাস্তবায়ন করে জাতির কাছে বলুক।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা এই সরকারকে ব্যর্থ দেখতে চাই না। কারণ জ্বালানি সংকটে সরকার ব্যর্থ হলে শুধু সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই মা, যিনি সকালে চুলা জ্বালাতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই শ্রমিক, যার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হন সেই উদ্যোক্তা, যিনি সময়মতো পণ্য তৈরি বা রফতানি করতে পারেন না। ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে সংসদে। এখন এগুলো খরচ করেন। ব্যর্থ সরকারগুলো সবসময় জনগণের দুর্ভোগের কথা লুকিয়ে নিজের গণবিচ্ছিন্নতা থেকে বাঁচতে ননইস্যুকে সামনে এনে বিরোধীদলের উপর চাপিয়ে দিতে চায়।

