এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের দায়ে সিয়াম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে এ জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বগুড়া শহরের শেরপুর রোডের মফিজ পাগলার মোড় এলাকায় অবস্থিত সিয়াম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হোটেলটির রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণের স্থান পরিদর্শন করে নানা ধরনের অনিয়ম ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র পাওয়া যায়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, হোটেলটির রান্নাঘরে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরোটা তৈরির ময়দার ডো সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া পোড়া ও ব্যবহৃত তেলে পরোটা, পুরি ও মোগলাই তৈরি করতে দেখা যায়। প্রস্তুত করা খাবারও খোলা অবস্থায় রাখা ছিল। রান্নাঘরে তেলাপোকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।
এ ছাড়া হোটেলের ফ্রিজে পচা ও বাসি খাবার সংরক্ষণ করে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। খাদ্যদ্রব্য যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে সংরক্ষণ ও পরিবেশন করায় অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন এবং এসব অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অপরাধ স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিনের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত সিয়াম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ রাসেলসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফ উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।
এ সময় হোটেল কর্তৃপক্ষকে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সরকারের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

