এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে সাবেক স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করে সংসার করার আশ্বাস দিয়ে সাড়ে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন নামের এক নারী অভিযোগ করেছেন, দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তিনি সাবেক স্বামীর কথায় বিশ্বাস করে টাকা দিলেও পরে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার গাংনগর দক্ষিণদহ এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে শাহারুল ইসলামের সঙ্গে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কুদ্দুস হোসেনের মেয়ে রাবেয়া খাতুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পারিবারিক কলহের জেরে চলতি বছরের ১৫ জুন উভয়ের সম্মতিতে তাদের ‘খোলা তালাক’ সম্পন্ন হয়। ওই সময় দেনমোহর ও দুই সন্তানের খোরপোশ বাবদ রাবেয়া খাতুনকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
রাবেয়া খাতুনের অভিযোগ, তালাকের কিছুদিন পর শাহারুল ইসলাম আবার তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। তিনি সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে পুনরায় বিয়ে করে সংসার করার আশ্বাস দেন। তবে এজন্য আগে দেওয়া সাড়ে ৫ লাখ টাকা ফেরত চান তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংসার পুনরায় গুছিয়ে নেওয়ার আশায় রাবেয়া প্রথমে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় শাহারুলের এক স্বজনের বাড়িতে গিয়ে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দেন। পরে ২৯ জুলাই নওগাঁর সোনালী ব্যাংক পিএলসি শাখা থেকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মোকামতলা শাখায় শাহারুল ইসলামের দেওয়া অ্যাকাউন্টে আরও ২ লাখ টাকা পাঠান। এ লেনদেনের কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
রাবেয়ার অভিযোগ, টাকা পাওয়ার পর শাহারুল তার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দেওয়া হলেও শাহারুল অন্য এক নারীকে বিয়ে করে বগুড়া শহরে বসবাস করছেন।
রাবেয়া খাতুন বলেন, “সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি তার কথায় বিশ্বাস করেছিলাম। এখন আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমি আমার সন্তানদের অধিকার ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযোগটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযুক্ত শাহারুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

