পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেছেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রংপুরেও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। আগামী সাড়ে চার বছরে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল মানুষ দেখতে পাবেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ী সড়ক শক্তিশালীকরণ ও মেরামতকরণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা আপনাদের বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না। বেহেশত পেতে হলে মহান আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। আমরা আপনাদের উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। আগামী সাড়ে চার বছরে আপনারা সেই উন্নয়ন দেখতে পারবেন।
তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। দুই থেকে তিন হাজার গাড়ি নিয়ে লাখ লাখ লিটার তেল ও গ্যাস অপচয় করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে সৃষ্ট সংকট বর্তমান সরকারকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকার গঠনের ছয় মাস না যেতেই একটি নির্বাচিত সরকারকে পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকারের পতন এত সহজ নয়। ২০ বছর ধরে বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছি। এ গদি জনগণের গদি। জনগণের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত এ সরকারকে সহজে সরানো যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, সরকার পাঁচ বছর জনগণের জন্য কাজ করতে চায়। এরপর জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাবে। সরকারের কাজ পছন্দ হলে জনগণ ভোট দেবেন, পছন্দ না হলে ভোট দেবেন না। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন, কারা দেশ পরিচালনা করবে।
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে শেখ হাসিনার ফিরে আসার পথ সুগম হয়। দেশের মানুষ শেখ হাসিনাকে আর ক্ষমতায় ফিরতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বড়দরগাহ থেকে ভেন্ডাবাড়ী সড়ক শক্তিশালীকরণ ও মেরামতকরণ কাজ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা আরও সহজ ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

