এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ
বগুড়ার নগরীর প্রাণকেন্দ্র ঐতিহাসিক সাতমাথায় একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকানে অভিযান চালিয়ে ১১ হাজার ১০০ পিস অবৈধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে অভিযান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় রঞ্জু ইলেকট্রনিক্সের মালিক রঞ্জুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা গেছে, সাতমাথায় টিএমএসএস ভবনের নিচতলায় অবস্থিত রঞ্জু ইলেকট্রনিক্সে অভিযান পরিচালনা করে এসব ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একটি ইলেকট্রনিক্স ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে যদি মাদকের অবৈধ কারবার পরিচালিত হয়, তাহলে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলো কতটা নিরাপদ? রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হওয়ার লোভে একটি অসাধু চক্র তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
একসময় বগুড়ায় গাড়ির ব্যবসা, সিনেমা হল এবং পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার দেখা গেলেও সময়ের পরিবর্তনে অনেক ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে মাদকদ্রব্যের অবৈধ কারবার ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ট্যাপেন্টাডলের মতো ওষুধজাত মাদকের অবৈধ বাণিজ্য তরুণ সমাজের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
ট্যাপেন্টাডল একটি ব্যথানাশক ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে এর অপব্যবহার গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অবৈধভাবে এর বেচাকেনা ও অপব্যবহার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের মতে, শুধু একজনকে গ্রেফতার করেই এ ধরনের অবৈধ কারবারের বিস্তার রোধ করা সম্ভব নয়। এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র, সরবরাহকারী কিংবা অর্থের জোগানদাতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বগুড়ার সাতমাথার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান থেকে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন এখন সময়ের দাবি।

