স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শেরপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্রেড, বিস্কুট ও কেক উৎপাদন, খাদ্যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বৈকালী ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরির মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার শেরুয়া বটতলা এলাকায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কারখানায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলাকালে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চিত্র দেখতে পান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ময়লাযুক্ত কাঠের টেবিলে তৈরি করা হচ্ছিল বিস্কুট। খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ। এ ছাড়া কেক ও বিস্কুট সংরক্ষণের স্থানে অসংখ্য তেলাপোকার বিচরণ দেখা যায়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানের মোড়ক ব্যবহার করেও পণ্য বাজারজাত করার বিষয়টি অভিযানে উঠে আসে।
এসব অনিয়ম ও ভোক্তা অধিকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযানকালে জব্দ করা ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ এবং পাঁচ ট্রে কেক জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি কারখানার বিদ্যমান অনিয়ম ও ত্রুটিগুলো সংশোধনের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অনিয়মের প্রতিকার না হলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে শেরপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তাহমিনা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

