https://pranershohorbd.net/wp-content/uploads/2022/09/logo-ps-1.png
ঢাকামঙ্গলবার, 3 নভেম্বর 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-বিচার
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া বার্তা
  6. কক্সবাজার
  7. কিশোরগঞ্জ
  8. কুড়িগ্রাম
  9. কুমিল্লা
  10. কুষ্টিয়া
  11. কৃষি বার্তা
  12. খাগড়াছড়ি
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. খোলা কলাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়া শেরপুরে গ্রামীণ প্রকল্পে কোটি টাকার কাজে অনিয়ম’ কাগজে কলমে কাজ” বাস্তবে নেই ‘ তদন্তের আশ্বাস ইউএনও’র

admin
নভেম্বর 3, 2026 7:50 অপরাহ্ন
Link Copied!

স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ার শেরপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর, কাবিটা ও কাবিখা) আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কাগজে-কলমে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে মাটি ভরাট কিংবা ইট বিছানোর কাজও হয়নি। আবার কোথাও পুরোনো ইটের ওপর সামান্য বালু ফেলে নতুন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন দেখানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া অর্থ ও খাদ্যশস্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ, বিল-ভাউচার, বাস্তবায়ন প্রতিবেদন ও মাঠপর্যায়ের কাজের পরিমাণ পরীক্ষা করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শেরপুর উপজেলায় ১৭২টি প্রকল্পের বিপরীতে নগদ ৩ কোটি ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা এবং চাল ও গম মিলিয়ে প্রায় ১৭৪ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ঘুরে বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তব কাজের পরিমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক প্রকল্পে বরাদ্দের তুলনায় কাজ হয়েছে খুবই কম, কোথাও আবার দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজই হয়নি।

 

জানা যায়, কুসুম্বী ইউনিয়নের শেওলাগাড়ী জামে মসজিদ থেকে নূর ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে তিন লাখ টাকার কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও সেখানে কোনো উন্নয়নকাজ হতে দেখেননি স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি মো. সাইদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক দিন আগের বিষয় হওয়ায় তা তাঁর মনে নেই।
একই ইউনিয়নের উদয়কুঁড়ি-উছলবাড়ীয়া সড়কে পাঁচ লাখ টাকার সোলিং প্রকল্পে তিন ধাপে মাত্র ১০ থেকে ১২ হাজার ইট বিছানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আব্দুল করিম, মো. মিলন ও মো. রফিকুল ইসলামের দাবি, পুরো প্রকল্পে মাত্র ছয়জন শ্রমিক কাজ করেছেন। বরাদ্দের তুলনায় কাজের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য।

 

এ ছাড়া হাপুনিয়া গোরস্থানপাড়ায় চানমিয়ার বাড়ি থেকে গোরস্থান পর্যন্ত সড়কের সোলিংয়ের কাজ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাব্বির।
কুসুম্বী ইউনিয়নের কাঁশিপাড়ায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে পশ্চিম দিকে সড়কের কাজে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং নন্দীগ্রামমুখী সড়কের কাজে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৩৬ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় আফসার আলী ও হাদিউল ইসলামের অভিযোগ, দুটি প্রকল্পে বরাদ্দের বিপরীতে বড়জোর এক হাজার ইটের কাজ হয়েছে।

 

স্থানীয় নায়েব আলী ও সিদ্দিকের দাবি, নন্দীগ্রামমুখী সড়কে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা মিলি আক্তার বলেন, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। কৃষকদের ধান পরিবহনেও বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাঁশিপাড়া প্রকল্পের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মো. মোকছেদ আলী। তাঁর দাবি, কাজ সঠিকভাবেই করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় কিছু লোক রাস্তার ইট তুলে নিয়েছেন।

 

উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের কহিতকুলে রায়হানের বাড়ি থেকে আবুলের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে টিআর প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয় জাহাঙ্গীর হোসেন ও খলিলুর রহমানের অভিযোগ, সেখানে নতুন কোনো ইট ব্যবহার করা হয়নি। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় চার বছর আগে নির্মিত সড়কটির মাঝের প্রায় ৬০ ফুট অংশের পুরোনো ইট তুলে দেড় বছর আগে বালু বিছানো হয়েছিল। নতুন করে কাজ না করেই পুরোনো কাজের বিপরীতে বিল তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
একই ইউনিয়নের নাইশিমুলে সোবাহানের বাড়ির পুকুরপাড়ে কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৭ দশমিক ৬৬ মেট্রিক টন গম বরাদ্দে একটি গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়। তবে গাইডওয়ালটি মূল সড়কের চেয়ে প্রায় ১০ ইঞ্চি নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে পথ ডুবে থাকে বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুস সোবাহান, মোহাম্মদ মিজান, মো. আবিরউদ্দিন ও রোশমি বেগম।

 

পশ্চিম নাইশিমুলে গগেনের বাড়িমুখী সড়কে চার মেট্রিক টন চালের প্রকল্পে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মূল পাকা সড়কের সংযোগমুখ বন্ধ রাখা এবং সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নয়ন কুমার সরকার, মন্টু চন্দ্র ও দিনেশ চন্দ্র।
ভবানীপুর ইউনিয়নের আটাইলে পাশাপাশি দুটি সড়কের উন্নয়নে কাবিটা কর্মসূচির আওতায় ৫ লাখ ১ হাজার ৫২০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় জিন্নাত আলী ও মো. সোহেলের দাবি, সেখানে বড়জোর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে।

তাঁদের অভিযোগ, সড়ক দুটিতে কোনো মাটিও ফেলা হয়নি। একই ইউনিয়নের বড়াইদহ পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ মাঠ সংস্কারে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে মাত্র ২৫ গাড়ি মাটি ফেলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মো. গোলাম, লিলি, আকাশ ও আরাফাত সানী। তাঁদের দাবি, এ কাজে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, “চেয়ারম্যান ও সচিব যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবেই করেছি।”
অন্যদিকে ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, সিডিউল অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্ব প্রকল্প সভাপতির। এ ক্ষেত্রে নিজের দায় তিনি এড়াতে পারেন না।

খামারকান্দি ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোড়দৌড় নতুনপাড়ায় মজিদের বাড়ি থেকে জামে মসজিদমুখী রাস্তায় ইট বিছানো ও মাটি ভরাটের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ০২৯১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর আর্থিক মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য সাদিক হাসান শামীম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটি এখনো কাঁচা মেঠোপথ হিসেবে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাদশার অভিযোগ, রাস্তায় মাটি ভরাট কিংবা ইট বিছানোর কোনো কাজ করা হয়নি। এমনকি প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কেও গ্রামবাসী কিছু জানেন না বলে দাবি করেন তিনি। একই ইউনিয়নের ঘোড়দৌড় পশ্চিমপাড়ায় হাফিজের বাড়ি থেকে সালামের বাড়ি পর্যন্ত সড়কে কাবিটা প্রকল্পের আওতায় চার লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাহাদৎ হোসেনের অভিযোগ, সেখানে কোনো মাটি ফেলা হয়নি। পুরোনো ইটের সঙ্গে মাত্র দুই ট্রলি নতুন ইট ও বালু ফেলে কাজ শেষ করা হয়েছে।

পারভবানীপুর জান্নাতপাড়ায় মজিবরের বাড়ি থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে যাওয়া সড়কে ২ লাখ ৪১৫ টাকার প্রকল্পেও নতুন কোনো ইট বা মাটি ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় লাল মিয়া। তাঁর দাবি, তিন বছর আগের পুরোনো ইট তুলে নামমাত্র বালু দিয়ে আবার বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মাগুড়ার তাইড় হাজীপাড়ায় পুকুরপাড়ে গাইডওয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাটে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো মাটি ফেলা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদুর রহমান।

এসব অভিযোগের বিষয়ে খামারকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলন হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে মাটি ভরাট ও প্যালাসাইটিংয়ের কাজ বাকি ছিল। কাজগুলো দ্রুত সমন্বয় করা হবে।
বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গত বৃহস্পতিবার বেলা তিনটায় শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আব্দুল জব্বারের কার্যালয়ে যাওয়া হলে তিনি অপেক্ষা করতে বলে কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁর সরকারি মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “আমার যোগদানের আগেই অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল"প্রাণের শহর বিডি'র জন্য সারাদেশব্যাপী সাংবাদিক নিয়োগ চলছে। আগ্রহীরা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন অথবা সিভি পাঠিয়ে দিন। সিভি পাঠানোর ইমেইল Mintuislam59@gmail.com, আমাদের দৈনিক প্রাণের শহর বিডি অনলাইনে সারাদেশের পাঠকরা নিউজ পাঠাতে পারেন" নিউজ পাঠানোর ইমেইল pranershohorbd@gmail.com এ। আমাদের খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো। বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।