এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার আলোচিত গরু চুরি মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে বগুড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে পৃথক দুই অভিযানে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ এবং চুরি হওয়া পাঁচটি গরু উদ্ধার করেছে র্যাব।
র্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ দিবাগত রাতে নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার গোনা দিঘীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন সরদারের গোয়ালঘরের তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা পাঁচটি গরু চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে র্যাব-১২ ছায়া তদন্ত শুরু করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুলাই রাত প্রায় ৯টা ১০ মিনিটে বগুড়া সদর উপজেলার ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি মো. রাব্বানী সাখিদার (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন, দুটি সিম কার্ড এবং নগদ ১ হাজার ৩৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এরপর বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে র্যাব-১২, সিপিএসসি, বগুড়া এবং র্যাব-৫, সিপিসি-২, নাটোরের যৌথ অভিযানে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার তাজপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আরও দুই আসামি শ্রী সুজিত হালদার (৪০) ও শ্রী সুচন্দন হালদার (২৩)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময় চুরি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক জব্দ করা হয় এবং চুরি হওয়া পাঁচটি গরু উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নওগাঁ জেলার রাণীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া গরুগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
র্যাব-১২ আরও জানায়, সংঘবদ্ধ অপরাধ, চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা এবং বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জনগণের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

