স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা
অপরাধ দমন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আলোচিত ও ক্লুলেস মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ১৬ জন কর্মকর্তা ও তদন্তকারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সিআইডি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা (এপ্রিল-জুন/২০২৬)’–এর সমাপনী দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান জনাব আলি আকবর খান।
অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিট বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উন্মোচন ও আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন হলো:
জালিয়াত ও মানব পাচার চক্র গ্রেফতার: পুলিশ কনস্টেবল পদে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎকারী দুই প্রতারক নগদ টাকা ও চেকসহ গ্রেফতার; এবং ভূ-মধ্যসাগরে নৌকাডুবে ১৮ জন বাংলাদেশী মৃত্যুবরণের মামলায় গঠিত মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার।
সাইবার ও অনলাইন জুয়া অপরাধ: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা এবং বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের সাথে যুক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ অন্তত ১৪ জন সদস্যকে গ্রেফতার।
প্রতারণা ও অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং: বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলরের হোয়াটসঅ্যাপ আইডি হ্যাক করে প্রতারণাকারী এবং অন্যের ফেসবুক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারকদের গ্রেফতার।
চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন: দীর্ঘদিন পর (প্রায় ৫ বছর) ডিএনএ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃ পরিচয় শনাক্তকরণ, ক্লুলেস জোড়া খুন ও অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, এবং অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার।
অর্থনৈতিক ও অর্গানাইজড ক্রাইম: ‘হামীম শামীম এগ্রো অ্যান্ড ফার্ম’-এর মাধ্যমে সংঘবদ্ধ প্রতারণা, মুক্তিপণ আদায়, মানব পাচার ও মানিলন্ডারিং অপরাধে মামলা রুজু; এছাড়া ভিসা জালিয়াতি চক্রের মূলহোতা বিমান বাংলাদেশের এক কর্মচারীকে গ্রেফতার।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তদন্তকারীবৃন্দ
অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড ও সাহসী ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানিত কর্মকর্তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। পদক প্রাপ্তদের তালিকা:
ড. মোঃ রুহুল আমিন সরকার — অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার (ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম)
পীযুষ কুমার দে — অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট-সিপিসি)
মোঃ আশরাফুজ্জামান — পুলিশ পরিদর্শক (ঢাকা মেট্রো-উত্তর)
এ কে এম মনিবুল হক — পুলিশ পরিদর্শক (ঢাকা মেট্রো-পূর্ব)
মোঃ রাসেল, পিপিএম — পুলিশ পরিদর্শক (হিনিয়াস ক্রাইম)
মোঃ রফিকুল ইসলাম — পুলিশ পরিদর্শক (খুলনা মেট্রো অ্যান্ড জেলা)
মোঃ মজিবর রহমান, বিপিএম — পুলিশ পরিদর্শক (নওগাঁ জেলা)
মোঃ মেহেদী হাসান — এসআই (টিএইচবি)
মোঃ মিজানুর রহমান — এসআই (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম)
প্রদীপ কুমার দাস — এসআই (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস-সিপিসি)
মোঃ দেলোয়ার হোসেন — এসআই (সাইবার পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-সিপিসি)
মোঃ নজরুল ইসলাম — এসআই (ঢাকা জেলা)
মোঃ ফরহাদ আলী — এসআই (কুমিল্লা জেলা)
মোঃ তোফাজ্জল হোসেন — এসআই (হবিগঞ্জ জেলা)
মোঃ আনিচুর রহমান — এসআই (মাগুরা জেলা)
মোঃ সাইফুল ইসলাম — এসআই (রাজশাহী জেলা ইউনিট)
অনুষ্ঠানে সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং মাঠপর্যায়ের মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অপরাধ দমনে পুলিশিং কার্যক্রম আরও বেগবান ও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে।

