শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অবস্থিত নাঈম অ্যান্ড নাহিদ ফুড প্রোডাক্টস নামের একটি লাচ্ছা ও সেমাই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন কারখানার মালিক।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা থেকে সোয়া চারটার মধ্যে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। “আনন্দ লাচ্চা সেমাই” নামক মোড়কে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করা হতো এই কারখানা থেকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফজরের নামাজ আদায়ের পূর্বমুহূর্তে কারখানার ভেতর থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান তারা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে আধাঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে না এলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারতো বলে জানান স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স-এর শেরপুর ইউনিটের সদস্যরা দীর্ঘ সময় পানি ছিটিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, “কারখানাটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল। এছাড়া বুধবার রাতেও সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম চলেছে। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ লাচ্ছা, সেমাই, কাঁচামাল ও উৎপাদন সরঞ্জাম আগুনে পুড়ে গেছে। কয়েক বছর ধরে গ্রামীণ ওই এলাকায় নাহিদ অ্যান্ড নাঈম ফুড প্রোডাক্টস কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হতো।
কারখানার মালিক হেলাল উদ্দিন জানান, “আগুনে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হঠাৎ করে এমন ঘটনায় আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”

