স্টাফ রিপোর্টার:
বগুড়ায় এবারও চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ী ও বিক্রেতারা। বিক্রি করতে না পেরে চামড়া নিয়ে অনেকেই পথে পথে ঘুরছেন। এদিকে ছাগলের চামড়া ১০ টাকা, গরুর চামড়া গড়ে ৩০০ টাকায় কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
মহাস্থান এলাকার রহেদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকায় গরু কিনে কোরবানি দিয়ে চামড়া বিক্রি করেছেন মাত্র ২৮০ টাকায়।
অনেকেই ক্রেতা না পেয়ে স্থানীয় মাদ্রাসাগুলোতে দান করে দিচ্ছেন চামড়া।
বগুড়া নগরের নামাজগড় হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আমিনুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকার মানুষেরা মাদ্রাসায় চামড়া দান করেছেন। ১৭৬টি ছাগলের চামড়া বিক্রির জন্য নগরের বাদুরতলা ব্যবসায়ীদের কাছে ১০ টাকা পিস দরে বিক্রি করতে হয়েছে, তাতে গাড়ি ভাড়াও ওঠেনি।’
বাদুরতলার চামড়া ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন বলেন, ‘সরকার শুধু দাম নির্ধারণ করেছে কিন্তু সরকার তো চামড়া কিনছে না, আমরা আমাদের দামে কিনছি। সবচেয়ে বড় গরুর চামড়া ৭০০ টাকা, নিচে ৫০ টাকা পিস দরেও কিনছি। তাও ঢাকায় ট্যানারির কাছে কেনা দামে বিক্রি করতে পারব কি না, সন্দেহ আছে। ফলে চামড়া কিনেও বিপাকে আছি।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ছোট-বড় ৩৪৫ চামড়া ব্যবসায়ীর মধ্যে চামড়া কিনছেন মাত্র ১৫৬ জন।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন বলেন, সরকারি দরে চামড়া কিনলে পথে বসতে হবে। কারণ, ওই দামে ঢাকার ট্যানারি মালিকরা আমাদের থেকে চামড়া কিনবে না। এছাড়া ট্যানারি মালিকরা প্রতি বছরেই আমাদের থেকে বাকিতে চামড়া কিনে সময়মতো দাম পরিশোধ করে না। এখনও গত বছরের পাওনা আছি ১৬ কোটি টাকা।

