এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আলোচিত সোহাগ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর পলাতক আসামি আবু সাইদ ওরফে সাবিনুর (৪৫)কে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট ২০২৬) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার হানুবাইশ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-১২-এর ক্রাইম প্রিভেনশন স্পেশালাইজড কোম্পানি (সিপিএসসি), বগুড়া এবং র্যাব-১১-এর সিপিসি-৩, নোয়াখালীর সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ জুন ২০২৬ সন্ধ্যায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী শারমিন আক্তারের সঙ্গে আবু সাইদের বাগ্বিতণ্ডা সৃষ্টি হলে স্বজনরা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আলোচনার একপর্যায়ে আবু সাইদ ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে সোহাগকে গুরুতরভাবে আঘাত করেন। একই সময়ে অপর এক আসামি চাপাতি দিয়ে রুবেলকে কুপিয়ে জখম করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
গুরুতর আহত সোহাগ ও রুবেলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুন বিকেলে সোহাগের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা শাজাহানপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি আবু সাইদ আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, গ্রেপ্তার এড়াতে আবু সাইদ লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং ছায়া তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে পরিকল্পিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র্যাব।
র্যাবের কর্মকর্তারা জানান, চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং হত্যা, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক ও অপহরণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
স্থানীয়দের মতে, আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় মামলার বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

