সম্পাদকীয়
অতীত ও বর্তমান রাজনীতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে কিছু কথা – মিন্টু ইসলাম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবকাঠামো নিয়ে দেশের মানুষ এখনোও অনেকটা দুচিন্তায় আছেন। আমার এই কথাগুলো বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা, হয়তো অনেকের কাছে আমার মন্তব্য খারাপ লাগবে, কারো কাছে ভালো লাগবে এটাই স্বাভাবিক কেননা যাহা সত্য তাহাই বলি আমি। কেননা জুলাই -২০২৪ ছাত্র জনতার আন্দোলনের স্বরণীয় দিন ৫ জুলাই দেশ ২য় বার স্বাধীন হলেও ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ ও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পরিস্থিতির উন্নয়ন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি,, তবে নির্বাচন সুন্দর ও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে আশাবাদী দেশের আপামর ২০ কোটি মানুষ। আমার দেখা ২০০৮ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন আনন্দমুখরিত ছিলো বাংলাদেশের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায়” সেই নির্বাচনের আগে ত্বত্তাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফখরুদ্দীন আহমেদ সরকার অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন।
২০০৮ সালের অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেকটা প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেই নির্বাচন দেশের মানুষ ও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে কিছুটা প্রশংসনীয় ছিলো। সেই নির্বাচন নিয়ে দেশের জনগণের কোনো বিরুপ মন্তব্য করতে দেখা যায়নি বা দেশে বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু তারপর ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সরকার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসেন। এরপর থেকে বাংলাদেশের ভোটের অধিকার আর প্রতিষ্ঠা হয়নি বরং ভোটের অধিকার অনেকটা কেড়ে নেওয়া হয়েছিলো বলা যায়। ২০১৪ নির্বাচন, ২০১৮ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ তৈরি করলেও, দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সাধারণ মানুষের কাছে সেইসব ভোটারদের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা হিসেবে প্রাধান্য লাভ করেনি তখন। কারণ বিরোধী দলের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করলেও ভোটের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দেশের আপামর বাঙালির ভোটের অধিকার ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করতে পারেননি।
প্রশাসনের মাধ্যমে দলীয়করণ থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকার সংসদ সদস্য হিসেবে যারা অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন তাদের নেতাকর্মীদের কারণে সাধারণ মানুষ ভোটের গণতান্ত্রিক ভোট দিতে পারেনি এবং দিতে দেওয়া হয়নি এমনই অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০২৩ এর নির্বাচন আরও প্রশ্নবোধক হয়েছে জাতির কাছে,বিদেশিদের কাছে, ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। এই নির্বাচনে আগে ও পরে বিরোধী দলের উপর মামলা ও হামলার শিকার অতিরিক্ত হয়েছে। যা দেখতে পেরে সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা না করতে পেরে অনেকে বলেন আওয়ামী লীগ সরকার কতদিন থাকবেন আল্লাহই ভালো জানেন বলে ফেলেছেন যা এখনো মনে পড়ে।
তবে উল্লেখযোগ্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন করেছেন আওয়ামী লীগ সরকার যেমন ঢাকার মেট্রোরেল,সারাদেশের মহাসড়ক, রাস্তাঘাট, পদ্মাসেতু নির্মাণ ইত্যাদি। কিন্তু ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিরোধী দলের উপর মামলার অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যদের রাজাকারের খেতাব দিয়ে জনগণের কাছে শেখ হাসিনার সরকার গ্রহণ যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছেন ধিরে ধিরে। তার জন্যই ছাত্র জনতার আন্দোলনে ধর্মবর্ণ শেষে সব শ্রেণীর মানুষের গণজোয়ারে আওয়ামী লীগ সরকারকে বিব্রত অবস্থায় বিদায় নিতে হয়।
জুলাই আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় হলেও ষড়যন্ত্রের বিদায় হয়নি তাই বর্তমানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে এটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার সরকারের কাছে।
অনেকে আবার ভাবছেন ছাত্ররা কেন দল গঠন করেছেন? তারা কেন নির্বাচন করবেন? প্রশ্ন অনেকের? আমার কাছে মনে হয় আমি যতদূর জানি তাহলো ছাত্রসমাজের আন্দোলন করে যে বিজয় অর্জন করেছেন তার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য, দেশ ও জাতির উন্নয়ন হয় এমন গণতান্ত্রিক ভোট ব্যবস্থার সরকার গঠন হয়, আর যেন স্বৈরাচার ক্ষমতায় আসতে না পারে, আর যেন কোনো মায়ের কোল খালি না হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপত্তার জন্য দল গঠন করেছেন। যাইহোক এটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।
এখন প্রয়োজন ভোটের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা করার জন্য দলগুলোর অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করা। একে অপরকে দোষারোপ না করে আন্তরিকতার সঙ্গে দেশের আপামর মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যেন স্বৈরাচারমুক্ত গণতান্ত্রিক ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ভোটের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে আনন্দ উল্লাসে ভোটের মাঠে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
আমরা দেশের ক্লান্তিলগ্নে একজন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পেরেছিলাম যার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে, রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে শান্তি বিরাজমান আছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে যার জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করা হচ্ছে যা মোটেও কাম্য নয়। বিএনপির রাজনৈতিক নতুন চেতনায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান দেশে আসছেন খুব শীঘ্রই যা বিএনপির জন্য সুখবর এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিবেন বলে আমার বিশ্বাস।
এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল তাদের নীতি আদর্শ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় সাধারণ মানুষের কাছে সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা এজন্য তাদের জনপ্রিয়তা আছে এবং উন্নয়নের জন্য। ইসলামী আন্দোলন, এনসিপিসহ সকল দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে ১০০% সচ্ছতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করতে হবে।
সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে সুস্পষ্ট বিধি অনুযায়ী অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সরকার গঠন করবে এলক্ষ্যে কাজ করার জন্য ঐক্য গড়তে হবে। আমি আশাবাদী দেশের আপামর মানুষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে উন্নয়নের সরকার গঠন হবেই হবে ইনশাআল্লাহ।
মিন্টু ইসলাম
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক প্রাণের শহর বিডি
www.pranershohorbd.net
আমাদের দেশের কল্যাণ ও আস্থায় বিশ্বাসী
mintuislam59@gmail.com

