দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সিলেট বিভাগের ৭ জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক। বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যাভাব এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
মৃতদের মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন রয়েছেন।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে। অনেক কাঁচা ঘর ধসে পড়েছে, নষ্ট হয়েছে ফসল ও গবাদিপশু। অধিকাংশ নলকূপ ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
বান্দরবানে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জেলা শহরের অধিকাংশ এলাকা এখনো পানিতে নিমজ্জিত। বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কের বিভিন্ন অংশে এখনো পানি থাকায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরছেন। তবে ভাঙা সড়ক, ক্ষতিগ্রস্ত সেতু এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া কৃষিজমি নতুন সংকট তৈরি করেছে।
এদিকে হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার এবং মৌলভীবাজারে সাত হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কুড়িগ্রাম ও যশোরের কয়েকটি এলাকাতেও পানি বৃদ্ধি ও নদীভাঙনের কারণে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হতে পারে। তবে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের মতে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় আগামী এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে।

