এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট তৈরি, নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার এবং খাদ্যপণ্যের মোড়কে অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ‘গ্রীন এগ্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজ’ নামের একটি খাদ্য কারখানাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বগুড়া সদর উপজেলার সুলতানগঞ্জ পাড়ায় অবস্থিত কারখানাটিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসকের সার্বিক নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানটি পরিচালনা করে।
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, কারখানাটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিস্কুট তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুণগত মান যাচাইয়ের সনদবিহীন রাসায়নিক ফ্লেভার ব্যবহার, খাদ্যে ব্যবহার নিষিদ্ধ রাসায়নিক ‘হাইড্রোজ’ ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়াম বাই-কার্বোনেট দিয়ে বিস্কুট তৈরির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
এ ছাড়া কারখানায় মেয়াদোত্তীর্ণ রাসায়নিক রং ও ফ্লেভার ব্যবহার, প্রস্তুতকৃত খাদ্যপণ্যে ব্যাচ নম্বর উল্লেখ না করা এবং খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত রাসায়নিক সম্পর্কে মোড়কে অসত্য তথ্য ঘোষণার বিষয়ও অভিযানের সময় প্রতীয়মান হয়। পাশাপাশি খাদ্যকর্মীদের যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করার বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরে আসে।
এসব অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা দোষ স্বীকার করলে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৪২ ধারায় অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
এদিকে, কারখানায় পাওয়া অনিয়ম ও খাদ্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বগুড়া জেলা কার্যালয়।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল, বগুড়া সদর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য সহায়ক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি দল দায়িত্ব পালন করে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষকে সরকারের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে খাদ্য উৎপাদন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি, কাঁচামালের মান এবং অনুমোদিত রাসায়নিকের ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বারোপ করেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

