এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার গাবতলীতে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিয়া মনি (২৩) গাবতলী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন – গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের মালিয়ানডাঙ্গা গ্রামের মো. দুলু ফকিরের ছেলে মো. রাকিবুল হাসান শাকিল (২৬), মো. খোরশেদ আলমের ছেলে মো. রকি মিয়া (২৭), মোফাজ্জল মন্ডলের ছেলে মো. জিহাদ (২৪), মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. ইমরান ইসলাম (২২) এবং মো. বেলাল ফকিরের ছেলে মো. আলামিন (২৪)।
এজাহারে রিয়া মনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন গৃহিণী এবং বর্তমানে স্বামী মো. পল্লবের সঙ্গে বগুড়া সদর থানার নাটাইপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। তাঁর প্রথম স্বামীর ঘরের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি মেয়েকে নিয়ে গাবতলী উপজেলার চাকলা গ্রামে তাঁর মায়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। দিনভর ঘোরাঘুরি শেষে মেয়েকে মায়ের কাছে রেখে বিকেলে তিনি অপরিচিত এক ব্যক্তির ভ্যানযোগে গাবতলী বাজারে যান। পরে সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় সাবগ্রামে যান। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মন খারাপ থাকায় তিনি একটি ইজিবাইক ভাড়া করে ঘুরতে ঘুরতে বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের তরনীহাট-কাইনচাগাড়ি ব্রিজের পূর্ব পাশে পাকা সড়কে পৌঁছান।
অভিযোগে বলা হয়, সন্ধ্যার দিকে সেখানে পাঁচজন অভিযুক্ত তাঁর পথরোধ করে নাম-ঠিকানাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জানতে চান। তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে ইজিবাইকে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা পথরোধ করেন। এ সময় ইজিবাইকচালক প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন রিয়া মনি।
এজাহারে আরও বলা হয়, ইজিবাইকচালককে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা রিয়া মনিকেও চড়-থাপ্পড়সহ মারধর করেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও বেদনাদায়ক জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মারধরের একপর্যায়ে তাঁর পরনের কাপড় এলোমেলো করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়া মনি আরও অভিযোগ করেন, তিনি চিৎকার করে লোকজনের সহায়তা চাইলে অভিযুক্তরা মামলা না করার জন্য তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তিনি ইজিবাইকে করে বাসায় ফিরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। রাতে স্বামীকে বিষয়টি জানান এবং মোবাইল ফোনে তাঁর স্বজনদেরও অবহিত করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, পরে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শেষে থানায় গিয়ে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিব হাসান বলেন, এজাহারের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

