শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভাঙচুর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের সাতজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুটি অটোভ্যান, একটি বাইসাইকেল, বসতঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুড়া পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ শামছুল ইসলাম (৫২) শেরপুর থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শামছুল ইসলামের সঙ্গে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এজাহারে শামছুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড ও হাসুয়াসহ দলবদ্ধ হয়ে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। প্রতিবাদ করলে এক নম্বর অভিযুক্তের নির্দেশে অন্য এক অভিযুক্ত বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে তাঁর মাথায় ফোলা জখম হয়। পরে অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করেন।
তাঁর চিৎকারে ভাতিজা আব্দুল মোমিন, ভাইয়ের স্ত্রী মনোয়ারা, ছোট ভাই শরিফ, মা শরিফন, স্ত্রী সাহিদা ও ভাগিনা তামিম এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন মনোয়ারা বেগমের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন।
শামছুল ইসলামের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁর দুটি অটোভ্যান, একটি বাইসাইকেল, টিন ও সিমেন্টের তৈরি দুটি ঘর, চারটি জানালার থাই গ্লাসসহ ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া একজন অভিযুক্ত তাঁর শয়নকক্ষে প্রবেশ করে ড্রয়ার থেকে নগদ ২ লাখ টাকা ও আনুমানিক ৫ লাখ টাকা মূল্যের দুই ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পাশাপাশি তাঁদের জমিতে থাকা একটি নারকেল গাছও কেটে দেওয়া হয়।
পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে রাস্তাঘাটে একা পেলে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত শামছুল ইসলামসহ পরিবারের সাতজনকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার সাক্ষী হিসেবে কাফুড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ ফরহা হোসেন ও মোছাঃ এমিলা খাতুনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শামছুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওসি এস এম মঈনুদ্দিন জানান এজাহার পেয়েছি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

