মিন্টু ইসলাম:
আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নিতে সংগ্রাম করা তিন মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রশাসন। ভর্তি ও পড়াশোনাসংক্রান্ত খরচে সহায়তার জন্য তাদের হাতে এককালীন আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু।
সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমিনা একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। তিনি বর্তমানে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) পড়াশোনা করছেন। মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিকভাবে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। তার পড়াশোনা যেন আর্থিক সংকটে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
অপর শিক্ষার্থী হাবিবের বাবা-মা কেউই নেই। দিনমজুর দাদার কাছে বেড়ে ওঠা হাবিব বর্তমানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করছেন। নিজের উচ্চশিক্ষা চালিয়ে নিতে তাকে নানা ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
অন্যদিকে আহাদ তার পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করার চেষ্টা করছেন। তার বাবা নেই। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। পড়াশোনার খরচ মেটাতে আহাদ টিউশনি করার পাশাপাশি মালির কাজও করেন। এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া আহাদ কলেজেও ভালো ফলাফল করছেন বলে জানা গেছে।
আহাদকে উৎসাহ দিয়ে ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু তাকে সরকারি মেডিকেল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সমাজের আশপাশে এমন অনেক মেধাবী ও অদম্য শিক্ষার্থী রয়েছে, যারা প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজেদের স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করছে। তাদের প্রতি সামান্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
তিন শিক্ষার্থীর হাতে এককালীন আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উচ্চশিক্ষার পথ কিছুটা সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

