দৈনিক প্রাণের শহর বিডি ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ রাষ্ট্রপতি পদে যাচ্ছেন না; তিনি স্পিকার পদেই বহাল থাকছেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করার জন্য চিফ হুইপের পক্ষ থেকে তার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত বিএনপি দলীয়ভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে।
দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে বীর বিক্রম কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন, একাধিকবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে দলের মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ নেতা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই পক্ষের প্রার্থী বাছাইকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একজন প্রবীণ রাজনীতিককে প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট, অন্যদিকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় নেতাকে।
এই নির্বাচন শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নয়, বরং দীর্ঘদিন পর সংসদীয় রাজনীতিতে একটি প্রাণবন্ত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বহাল থাকা এবং রাষ্ট্রপতি পদে দুই ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার প্রার্থিতা—দুটিই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী করা দলটির রাজনৈতিক কৌশল ও দূরদর্শিতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অনেকে দেখছেন। তবে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে জয়ী হবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

