বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়ায় জেলা ও দায়রা জজ মো. মনিরুজ্জামানের পদায়নকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের চলমান আদালত বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে বগুড়া জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফলে আগামী রোববার থেকে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সংশ্লিষ্ট আদালতগুলোতে আইনজীবীরা নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে সমিতি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির গওহর আলী ভবনের হলরুমে সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ মো. রেজাউল রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে এ জরুরি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাধারণ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ আলোচনার পর বিচারপ্রার্থী জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়ার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মো. মনিরুজ্জামান যোগদান করেন। তার পদায়নকে কেন্দ্র করে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়। আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি রাজনৈতিক মামলা পরিচালনা এবং আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে প্রত্যাহারের দাবিতে ওই দিন থেকেই আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন আইনজীবীদের একাংশ।
এদিকে আদালত বর্জন চলাকালে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। একপক্ষ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও অন্য একটি অংশ বিচারপ্রার্থী মানুষের ভোগান্তি কমাতে আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির কারণে বিচারক একাধিকবার এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় যেতে বাধ্য হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এরই মধ্যে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গত মঙ্গলবার অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ তিন আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা আইনজীবী সমিতি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আইনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, বগুড়া ইউনিটের সভাপতি ও সরকারি কৌঁসুলি (জিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেদ গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নজরে এসেছে। সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত আইনজীবীদের দাবিগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জরুরি সাধারণ সভা আহ্বান করে আদালত বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনজীবী সমিতির এ সিদ্ধান্তের ফলে কয়েক দিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে আইনজীবীদের নিয়মিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বগুড়ার আদালতগুলোতে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

