মিন্টু ইসলাম:
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা, শিক্ষা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গ্রাহকরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক দোকানে অন্ধকারে বেচাকেনা করতে হচ্ছে। ফলে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বগুড়ার শেরপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উত্তরাপ্লাজায় অবস্থিত মেধা কসমেটিকসের ব্যবসায়ী অভিমান্য কুমার বলেন, “বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং জনজীবনে অশান্তি এনে দিয়েছে। সারাদিন ব্যবসা শেষে বাড়িতে গিয়েও দেখি বিদ্যুৎ নেই। কী যে একটা অবস্থা!”
শেরশাহ নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে শান্তি নেই। আগে তো এত লোডশেডিং হতো না। এখন কেন এত লোডশেডিং হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়ার কারণে রাতের ঘুম, শিশুদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন কলকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের রাতের পড়াশোনাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলার নেসকো বিদ্যুৎ অফিসের অভিযোগ নম্বরে ফোন করে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “লোডশেডিং চলছে। এজন্য এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে, আবার এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না।”
বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেরপুরবাসী নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই শেরপুরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

