এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মারধর, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং এক নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। আহত তিনজনকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কালেরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সজিব মন্ডল (২৮) বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কালেরপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম (৪৫), রফিকুল ইসলাম (৫৫) ও ইমরান হোসেন (৩২)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে সজিব মন্ডলের বড় বোন ছনি আক্তার (৩০) রেজাউল করিমের কাছ থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে ২০ শতক জমি বন্ধক নেন। পরে ওই জমিতে ঘাসের চারা রোপণ করেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন পর জমির মালিক রেজাউল করিম সেখানে গিয়ে রোপণ করা ঘাসের চারা নষ্ট করে জমি ফেরত নেওয়ার কথা বলেন।
সজিব মন্ডলের দাবি, এ বিষয়ে রেজাউল করিমের সঙ্গে কথা বললে তিনি বন্ধকের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং ছনি আক্তারকে তাঁর বাড়িতে পাঠাতে বলেন। এরপর টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শনিবার বিকেলে পাওনা এক লাখ টাকা ফেরত চাইতে সজিব মন্ডল ও তাঁর বোন ছনি আক্তার রেজাউল করিমের বাড়িতে যান। তাঁদের একটি মুদি দোকানের সামনে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কিছুক্ষণ পর রেজাউল করিমের সঙ্গে রফিকুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন সেখানে উপস্থিত হন।
সজিবের অভিযোগ, পাওনা টাকা পরিশোধ না করে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর বোনকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে রেজাউল করিম ছনি আক্তারের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে রফিকুল ইসলাম হাতে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে ছনি আক্তারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রেজাউল করিম ছনি আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ছয় আনি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন খুলে নেন এবং তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে লাঞ্ছিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বোনকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সজিব মন্ডলকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে বৃদ্ধ মা সোহাগী খাতুন (৬০) ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে দাবি করেন সজিব।
পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় আহত সজিব মন্ডল, ছনি আক্তার ও সোহাগী খাতুনকে ভ্যানে করে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজিব মন্ডলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। ছনি আক্তার ও সোহাগী খাতুনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম, আরমান হোসেন ও জোবাইল হোসেনসহ কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সজিব মন্ডল বলেন, “পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে আমার বোন, মা ও আমাকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা তাঁদের কাউকে মারধর করিনি। হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে তাঁরা মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে অভিযোগ করেছেন। বরং তাঁদের কাছে আমাদের আরও ৩০ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে। টাকা চাইলে তাঁরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি।”
ইমরান আরও দাবি করেন, অভিযোগকারীদের আচরণ ভালো নয় এবং তাঁরা বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করেন। তবে তাঁর এসব দাবির পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

