এম.এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, গাছপালা কেটে ফেলা, মারধর, এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. শামীম মিয়া (৩২) নামে এক ব্যক্তি ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী মানজেলী পাড়া গ্রামে শামীম মিয়ার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে আল আমিন, সাইফুল ইসলাম, রায়হান, ইসমাইল হোসেন, আশরাফ আলী, মিজানুর রহমান, টুলু মিয়া, মালতি খাতুন, আল্পনা খাতুন ও রহিমা খাতুনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শামীম মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা বাড়ির সীমানায় থাকা বিভিন্ন ফলজ ও কাঠজাতীয় গাছ কাটতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
শামীম মিয়ার দাবি, গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তদের কয়েকজন বাটাম দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শামীমের চিৎকার শুনে তার ছোট ভাই নাহিদ আলম (২১) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের মা নাজু বেওয়া (৫০) ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে কয়েকজন নাজু বেওয়ার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় তার বাম কানে থাকা প্রায় তিন আনি ওজনের একটি স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ওই দুলের আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড়ির পাশে থাকা বিভিন্ন ফলজ ও কাঠজাতীয় গাছ কেটে ফেলার অভিযোগও করেছেন শামীম মিয়া। এতে প্রায় ৯৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঘটনার পর শামীম মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের ওপর আবারও হামলা, আর্থিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় আহত হওয়ার পর শামীম মিয়া, তার ভাই নাহিদ আলম ও মা নাজু বেওয়া স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে তারা ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
শামীম মিয়া বলেন, “ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পরে ধুনট থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন – আল আমিন (৩৫), মো. সাইফুল ইসলাম (৪০), রায়হান (৩২), ইসমাইল হোসেন (৩৭), আশরাফ আলী (৬০), মিজানুর রহমান (২২), টুলু মিয়া (৩৩), মালতি খাতুন (৩২), আল্পনা খাতুন (২৮) ও মোছা. রহিমা খাতুন (৩৪)। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের সবার বাড়ি ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ী মানজেলী পাড়া এলাকায়।
এ বিষয়ে ধুনট থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বাদীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্তে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিবাদী আল আমিন। তিনি বলেন, “আমরা তাদের কোনো মারপিট করিনি। তারা আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। ওই সম্পত্তি পরিষ্কার করে বেড়া নির্মাণ করতে গেলে তারা আমাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে হামলা, মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

