এম,এ রাশেদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়ার ধুনট উপজেলায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তসহ সীমিত আয়ের মানুষ। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে গিয়ে অনেকেই ফিরে আসছেন কম পরিমাণে পণ্য নিয়ে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, টানা অতিবৃষ্টি, বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি, মাঠের সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সবজির দাম হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে ধুনট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম এখন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া বেগুন এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে। ৪৫ টাকার করলা বেড়ে হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। চিচিঙ্গা, পটল ও ঢেঁড়সের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ৩০ থেকে ৪০ টাকার চিচিঙ্গা এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি এবং ৫০ টাকার শসা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া আগে ২৫ টাকায় বিক্রি হওয়া একটি লাউ এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ২০ টাকার কচুর লতি বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা, ২০ টাকার পটল এখন ৬০ টাকা, ৩০ টাকার কচুরমুখী বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায় এবং ২০ টাকার পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
হঠাৎ করে সবজির এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুঠিবাড়ি গুচ্ছগ্রামের দিনমজুর পলাশ রায় বাগদি বলেন, “অন্যের কাজ করে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করি। সেই টাকা দিয়ে চাল কিনতেই হিমশিম খেতে হয়। এখন সবজির যে দাম, আমাদের মতো মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
নলডাঙ্গা গ্রামের গৃহিণী রুপালি খাতুন বলেন, “যে টাকা নিয়ে বাজারে এসেছিলাম, দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রয়োজনীয় দুই-একটি সবজি কিনেই ফিরে যেতে হচ্ছে। সবজির বাজারে যেন আগুন লেগেছে। সংসারের খরচ সামলাতে অনেক সবজি এখন খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হচ্ছি।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান এলাঙ্গী ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি গ্রামের বাসিন্দা দিলবর হোসেন। তিনি বলেন, “সবজির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে এসে আগের মতো কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না।”
নলডাঙ্গা বাজারের সবজি বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম ও মঞ্জু মিয়া বলেন, “দাম বাড়ানোর জন্য আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করছি। দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাও অনেক কমে গেছে। মানুষ আগের তুলনায় কম পরিমাণে সবজি কিনছেন।”
আরেক বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, অতিবৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে দু-একটি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
তিনি বলেন, “আগাম শীতকালীন সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে না এলে আগামী দিনগুলোতে সবজির দাম আরও বাড়তে পারে।”
স্থানীয় বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মূল্যস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। এ অবস্থায় সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্য ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে বাজার তদারকি জোরদার এবং কৃষকদের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

